
নির্মাণ কাজ বন্ধসহ কারণ দর্শানোর নাটিশ দিয়েছে পরিবেশঅধিদপ্তর
পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করছেন রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। খবর পেয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। দিয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশও। আর এই অভিযোগে ওএসডি করা হয়েছে বিপিসির চেয়ারম্যান মিন উল আহসানকে।
শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি এ তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানায়, পাহাড় কাটার ঘটনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আমিন উল আহসানকে বদলিপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৬এসডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
বিষুদবার ২৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মো. আমিন উল আহসান বিসিএস (প্রশাসন)পালনের আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন জনপ্রশাসন মণন্ত্রালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্লূ। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নগরীর সার্সন রোড এলাকার জয়পাহাড়ে পাহাড় কাটার তথ্য পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে যায় পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এসময় বিপিসি কর্তৃপক্ষকে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। এছাড়াও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিপিসির বিরুদ্ধে একতরফাভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ভবন নির্মাণের নামে পাহাড় কেটে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে বিপিসির চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি। বিপিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জয়পাহাড় এলাকায় তাদের নিজস্ব জমিতে পাঁচতলা স্টিল স্ট্রাকচারের একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় ভাড়া ভবনে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে বলেই নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে অবকাঠামো স্থাপনে খনন কাজ করা হচ্ছে। কোন পাহাড় কাটা হচ্ছে না।