পুলিশ কমিশনার’র হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী
নিজস্ব প্রতিনিধি
চান্দগাঁও থানা এলাকায় লটারির নামে জুয়া, ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা চলছে। চান্দগাঁও থানার বশর বিল্ডিং এর সামনের খোলা জায়গায় ও পাঠানিয়া গোদা ওসমানের দোকানের মোড়ে সিলেটি শাহিন ও নওগা আশিক নামের দুই জুয়াড়ি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে লটারীর আড়ালে জুয়া, ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় সচেতন জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে । অভিযোগ উঠছে, প্রতিদিন ৮ হাজার ৬০০ শত টাকার কোটায় প্রশাসন নিরব রয়েছে ।
এখানে খেটে খাওয়া অসহায় সরল সোজা দিনমজুর ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ গুলোকে বোকা বানিয়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে দুই জায়গায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।
প্রতিদিন খেলায় সিলেটি শাহিন ও নওগা আশিকের অভিনব কৌশলে বোকা হচ্ছে সাধারণ মানুষেরা ।লটারির ভ্যানের উপর চাউল,ডাল, আটা, ময়দা থেকে শুরু হরেক রকমের পশরা সাজানো থাকে। প্রতি দুই তিন টানের পরপর দেওয়া হয় ২৫ কেজি, ৫০ কেজি চাউলের বস্তা সাথে ৫ কেজি সয়াবিন তৈল, কিন্তু সেগুলো যারা পায় তারা সবাই তাদের সাজানো মানুষ। আকর্ষনের জন্য বারবার চাউলের বস্তা দেওয়ার নাটক সাজায় বটে যখনই এলাকার মহিলা ও পুরুষেরা টাকা ধরা শুরু করে তখন আর কিছুই জোটে না তাদের কপালে । সবাই একবস্তা চাউলের আসায় সারাদিনের ইনকাম টুকুও হারিয়ে হায় হায় করে মাথায় হাত দেন।
এই বিষয়ে ওসি তদন্ত কে ফোন দিলে তিনি জানান, আমি নতুন আসছি এব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।
৯৯৯ জরুরি সেবায় ফোন দিলে ১ ঘন্টা পরে এসআই ইমরান ফয়সাল ফোন করে জানান, আপনি এখানে আসেন আপনি আমাদের কে সাথে নিয়া যাবেন। পাশের থেকে তার ফোনে শোনা যায় এখানে আসতে বলেন, বলেন চিনতেছি না আপনি এসে দেখায়ে দেন। এভাবেই পুলিশের সাথে সখ্যতা করে চলছে লটারি জুয়া, ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা। পুলিশ ও জুয়ারু খেলা যেন এখানে।
বক্তব্য নেওয়ার জন্য, সিন্ডিকেটের মুলহোতা সিলেটি শাহিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, আমি থানায় প্রতিদিন ৮৬০০/ আট হাজার ছয়শত টাকা কোটা দিয়া ব্যবসা করি ।
এর আগেও কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মিদের সাথে খারাপ ব্যবহার করলেও থানায় মামলা কিংবা জিডিও নেয়নি চান্দগাঁও থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এলাকাবাসী বারবার থানায় জানালেও থানা থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দিনমজুর রিক্সা চালক মজিদ সারাদিনের ইনকামের টাকা হারিয়ে বলেন, এখান থেকে যে কেউ গেলে তাদেরকে জোর করে খেলতে বাধ্য করে। তাদের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই জন একজনের কাছে গাঁজা আরেকজনের কাছে ইয়াবা, যার যেটা প্রয়োজন সে সেটা কিনে নিতে পারে । মূলতঃ এটি একটি মাদকের স্পট।
এলাকার উঠতি বয়সী তরুণদের কে গাঁজায় আসক্ত ও ইয়াবা আসক্ত করার মূল স্পট এটি। এখানে কেউ কথা বললে মারপিট করে ও জানে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের দাবি এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এগুলো চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়না কোন ব্যবস্থা।
স্থায়ীভাবে জুয়া ও মাদকের স্পট বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।