1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
পদুয়া ফরেস্ট চেক ষ্টেশন যেন অবৈধ চাঁদা তোলার বৈধ ঘাট - পূর্ব বাংলা
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কাপ্তাই তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং: তুলে ধরলেন বর্তমান সরকারের ১ শত ৮০ দিনের সম্পাদিত কার্যক্রম পূর্ব বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক জাফর হায়াতের ১১তম মুত্যুবার্ষিকী পালন উন্মোচিত হলো এস এম পিন্টু ’অনুপ্রেরণা’ গ্রন্থের মোড়ক প্রাথমিকে নির্বাচিত ১৪ হাজার শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু জাফর হায়াতের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী ১১ মে সোমবার ২৩ ও ২৪ মে খোলা থাকবে অফিস জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন করলেন নতুন এসপি মাসুদ মোঃ আলীর হোটেল গেটওয়ে মদ,জুয়া, ইয়াবা ও অসাজামিক কর্মকান্ড সবই চলে দেখার কি দেখার কেউ নেই? বাজেট অধিবেশন ৭ জুন আনোয়ারায় প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে ওয়ারেন্ট প্রাপ্ত আসামী তবু গ্রেফতার হচ্ছে না

পদুয়া ফরেস্ট চেক ষ্টেশন যেন অবৈধ চাঁদা তোলার বৈধ ঘাট

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি

   গাছ পাচার বন্ধে পদুয়া ফরেস্ট চেক ষ্টেশন থাকলেও কাঠ পাচার মোটই বন্ধ হচ্ছে না। এই ষ্টেশন যেন অবৈধ চাঁদা তোলার বৈধ ঘাটে পরিণত হয়েছে। সাধারণ লোকজনসহ যেই কেউই অনুসন্ধানী দৃষ্ঠিতে লক্ষ্য কাঠ পাচার ও চাঁদা তোলার দৃশ্য সহজেই চোখে পড়বে।  বনের গাছ কাটা, জোত বিক্রি ও পারমিট সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও অবৈধ  লেনদেনের বিনিময়ে পাচারে সহযোগিতা করছেন  খোদ ফরেস্ট চেক স্টেশন ও রেঞ্জ কর্মকর্তা দুইজনই । অন্যরা হুকুম পালন করে মাত্র।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের ফরেষ্ট চেক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন অবাধে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার কাঠ। পদুয়া ফরেস্ট চেক স্টেশনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাঠ চোর সিন্ডিকেটের যোগসাজশে দিনরাত পাচার হয় এসব কাঠ। কাঠ পাচারে দৈনিক অবৈধ লেনদেন প্রায় লাখ টাকা। এভাবে প্রতিমাসে অন্তত ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পদুয়া ফরেস্ট চেক স্টেশন ও রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার মোঃ মনুজুর মোরশেদ।

অভিযোগ উঠেছে, মাসিক মাসোহারায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তারা।স্থানীয়রা জানান, মোঃ মনজুর মোরশেদ একাধারে পদুয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা, হাংগর বিটের কর্মকর্তা এবং পদুয়া চেকপোস্টের কর্মকর্তা সহ মোট তিনটার দায়িত্ব পালন করছেন। যার কারণে চেকপোস্টের যে কোন অবৈধ কাজ করতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজন পড়ছে না। ফলে তিনি অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে সহজেই হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল অংকের টাকা।

 জানা যায়, পদুয়া চেক পোস্টের উপর দিয়ে প্রতিদিন বাঁশের গাড়ি, গাছের গাড়ি, ফার্নিচারের গাড়ি, কাঠের গাড়িসহ অন্তত অর্ধ শতাধিক গাড়ি চলাচল করে। এসব অবৈধ গাড়ি চেক পোস্ট পার করতে দায়িত্বরত বন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গাড়ি প্রতি ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।  বাশের গাড়ি থেকে নেওয়া ১ হাজার টাকা, গাছের গাড়ি থেকে প্রকারভেদে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা, ফার্ণিচারের গাড়ি থেকে প্রকারভেদে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা ও স্থানীয় কাঠ বোঝাই ট্রলি থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়াও পদুয়া রেঞ্জের আওতাধীন এলাকার ফার্ণিচার দোকান সমিতি থেকে প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অবস্থাদৃষ্ঠে দেখা যায় পদুয়া বন বিভাগের রেঞ্জ ও স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুর মোরশেদের দুর্নীতির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, মনে হয় সরকার তাকে ঘুষ নেওয়ার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। ঘুষ নেওয়ার বাইরে যেন তার আর কোনো কাজ নেই।

এদিকে পদুয়া রেঞ্জের আওতাধীন ডলু বিটের সংরক্ষিত (রিজার্ভ) জায়গা থেকেও গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বিগত কয়েকদিন ধরে এসব গাছ কাটার ঘটনা ঘটলেও চলছে এই নিধনযজ্ঞ। এই (ডলু বন বিটের) জায়গা থেকে নানা প্রজাতির গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গাছ নিধনযজ্ঞে অবগত রয়েছেন ডলু বনবিটের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম। তার জানা সত্বেও এই জায়গা থেকে কয়েকদিন ধরে গাছ গুলো কেটে বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে । এই পাহাড় থেকে আরও এক সপ্তাহে পর্যন্ত গাছ কাটবে বলেও জানান তারা।

জানা গেছে, এই গাছগুলো ক্রয় করেছেন চুনতী ইউনিয়নের ফারাঙ্গা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সাবেক শওকত আলী মেম্বারের ছেলে মোঃ নাজিম উদ্দিন। আর এসব গাছগুলো কেটে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সুমেলসহ বিভিন্ন জায়গায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডলু বনবিটের দক্ষিণে চুনতী ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের কিল্লাখোলা নামক এলাকায় একটি পাহাড়ের (রিজার্ভ) জায়গা থেকে নানা প্রজাতির মূল্যবান গাছ অবাধে কাটা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এই গাছ গুলো কেটে তা গাড়ি দিয়ে অন্যত্র বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসময় দেখা যায় ওই পাহাড়ের প্রায় শতাধিক গাছ কেটে তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে এবং আরও শতাধিক গাছ কাটা অবস্থায় পড়ে আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন যাবৎ ওই বনবিভাগের জায়গা ভোগদখল দিয়েছে। এখন ওই বনের জায়গা থেকে গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। এভাবে দিনের পর দিন বনভূমি উজাড় এবং বেদখল হলে বনের উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকবে।

রিজার্ভ জায়গা থেকে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে কাঠ ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন জানান, গাছ যে জায়গা থেকে কাটা হচ্ছে সে জায়গা রিজার্ভ নই। তিনি সরকারি খাস জায়গা থেকে গাছগুলো কাটছে বলেও জানান তিনি।

এই বিষয়ে জানার জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। মেসেজ দিয়েও সাড়া মেলেনি।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla