নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙ্গুনিয়ার শিলক এলাকায় জন্ম নেওয়া মনজুরুল আলম, পিতা শফিউল আলম, শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে ঘেরা। তিনি ১৯৮৪ সালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেন। এরপর বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কাপ্তাইয়ে উড টেকনোলজি বিষয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৯০ সালে সেখান থেকে পাস করেন। কিন্তু এর মধ্যেই ঘটেছিল বড় ধরনের অনিয়ম। তিনি পলিটেকনিকে ভর্তি হওয়ার পরই একইসঙ্গে রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৮৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেন। আইনত একজন শিক্ষার্থী একই সময়ে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ ও জালিয়াতি। অথচ মনজুরুল আলম এই আইনি বাধা এড়িয়ে কৌশলে দুটো প্রতিষ্ঠানেই পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং পরে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন।
ফরেস্টার পদে চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তার আর্থিক লোভপ্রবলভাবে বেড়ে যায়। সরকারি দায়িত্বকে
পালন করার বদলে তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। চাকরিজীবনে একাধিকবার তাকে সাসপেন্ডও হতে হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করতেন এবং অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়াকে নিয়মে পরিণত করেছিলেন। তার অনিয়মের অন্যতম দৃষ্টান্ত হলো ২০১১ সালের ঘটনা। সে সময় তিনি সাসপেন্ড অবস্থায় অফিসকে না জানিয়ে ব্যবসায়ী পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরি করেন এবং দুবাইয়ে প্রায় এক মাস অবস্থান করেন। সরকারি চাকরিজীবনে এ ধরনের পদক্ষেপ মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও তখনও তিনি প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যান।
চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জ এলাকায় মনজুরুল আলমের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি বিশ লাখ টাকা। তাছাড়া রামগড় ও বান্দরবান এলাকায়ও তার ব্যাপক পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার সম্পত্তির পরিমাণ দিন দিন বেড়েছে এবং বর্তমানে তার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার অবৈধ অর্থ-সম্পদ রয়েছে। সরকারি বেতনের সীমিত আয়ে এ ধরনের বিপুল সম্পদ অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়, যা তার দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
ফরেস্টার পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষাতেই বিজ্ঞান বিভাগে পাস করতে হয়। মঞ্জুরুল আলম যদিও এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছিলেন, কিন্তু তিনি একই সময়ে পলিটেকনিকে ভর্তি ছিলেন। প্রশ্ন হলো, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত অবস্থায় কীভাবে তিনি এইচএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট অর্জন করেছিলেন এবং পরে সেই সার্টিফিকেট দাখিল করে ফরেস্টার পদে চাকরি নিয়েছিলেন। এটি স্পষ্টতই নিয়মবহির্ভূত এবং প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি চাকরি লাভের দৃষ্টান্ত।
তার সম্পূর্ণ ক্যারিয়ারজুড়ে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বিদ্যমান ছিল। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি সব সময় টাকার পেছনে ছুটতেন এবং সরকারি দায়িত্বকে অবহেলা করতেন। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি টিকে যান। এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মনজুরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যদি বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনা হয়, তবে সত্য বেরিয়ে আসবে। বিশেষ করে একই সময়ে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ও পরবর্তীতে ফরেস্টার পদে নিয়োগের যোগ্যতা অর্জন নিয়ে তদন্ত করলে জালিয়াতির আসল কাহিনি উন্মোচিত হবে। তার বিপুল অবৈধ সম্পদের উৎস, বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জনের কৌশল সবকিছুই কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।
তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও এই সম্পদের বৈধ উৎস কোথাও নেই। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সীমিত বেতনে এত বিপুল সম্পদ গড়া সম্ভব নয়। তাই স্পষ্টভাবে বলা যায়, তিনি দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে এ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই ধরনের কর্মকর্তারা শুধু প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে না, বরং রাষ্ট্রীয় স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই তাকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করানো জরুরি।