এম.সফিউল আজম চৌধুরী
বাহারী ডিগ্রী সুসজ্জিত চেম্বার, দামী ডেন্টাল ইউনিট নিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে দিব্বি দাঁতের চিকিৎসা করে যাচ্ছে ডেন্টিষ্ট অভি চৌধুরী নামের একজন ভুয়া চিকিৎসকের সন্ধান পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ফকিরনীর হাট রাস্তার মাথা হাকিম শপিং সেন্টারে নিচ তলায় কমফোর্ট ডেন্টাল কেয়ার নামে চেম্বারে। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী বিডিএস ডিগ্রী ধারীরাই দাঁতের চিকিৎসা করতে পারবেন। ডেন্টাল সার্জেন ব্যতিত অন্যরা করলে দন্ডনীয় অপরাধ। যার শাস্তি ৩ বছর কারাদন্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ।ু
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফকিরনীর হাট রাস্তার মাথায় হাকিম শপিং সেন্টারের নিচ তলায় অবস্থিত কমফোর্ট ডেন্টাল কেয়ারে ডেন্টিষ্ট অভি চৌধুরী তার নামের পিছনে ডি.এমটি. ইন ডেন্টিস্ট্রী রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এফ.টি. ইন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। এসব ভুয়া ডিগ্রী লাগিয়ে সে দীর্ঘ দিন যাবত গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে দাতের চিকিৎসা করে যাচ্ছে।
জানা যায়, পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা অভি শিক্ষাজীবন শেষ করে কতিপয় প্রতিষ্ঠান হতে ডিপ্লোমা করে জনৈক ডেন্টাল সার্জেন্টের অধীনে সহকারী হিসেবে থেকে কিছুটা দাঁতের চিকিৎসা কার্যক্রম শিখে নিজেই বনে যায় বিখ্যাত দাঁতের চিকিৎসক। নামের পিছনে লাগিয়ে দেন বড় বড় ডিগ্রি। প্রকৃতপক্ষে, এর নামের শেষে লেখা কোনোটাই বি. এম. ডি. সি কর্তৃক স্বীকৃত ডিগ্রী নয়। তার এসব বাহারী ডিগ্রী দেখে সাধারণ মানুষ তাকে একজন বিশেজ্ঞ ডাক্তার মনে করে চিকিৎসা নিতে যায়। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অভি চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি নিয়ম মেনেই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বি. ডি. এস পাশ না করে নামের আগে ডেন্টিস্ট লিখা বা চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারে কি না প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি যৌক্তিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তবে তিনি জানান, মাননীয় আদালত আমাদের প্র্যাক্টিস করার অনুমতি দিয়ে রায় দিয়েছেন বিধায় আমরা প্র্যাক্টিস করতে পারি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই রায়ের বিরুদ্ধে ডেন্টাল সাজেন্টরা আদালতে আপিল করেছে। এলাকার সুশীল সমাজ জানান, অভি চৌধুরী দীর্ঘদিন যাবত দাঁতের চিকিৎসক সেজে সহজ-সরল মানুষ হতে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এইসব ভুয়া ডেন্টিস্টদের অপ-চিকিৎসার শিকার হয়ে দাঁতের চিকিৎসা করতে এসে গ্রামের সহজ-সরল অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে মরণব্যধি ক্যান্সার সহ নানা জটিল কঠিন রোগে। তাদের অপ-চিকিৎসার হাত থেকে জনগণকে বাঁচানোর জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।