
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সড়ক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামের ফুলকা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশিদ জানান। তিনি জানান, এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় বলে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান।
নিহতরা হলেন- ওই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে জিন্নাত আলী (৪০)।
উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল বলেন, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রামের একটি বেদখল সড়ক উদ্ধার করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার ওই সড়কে মাটি কাটার কাজ শুরু করতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, জয়নাল মিয়া (৫৫) ও তার লোকজন সেখানে মাটি কাটতে যান। তখন আব্দুর সাত্তারের ছেলে জিন্নাত আলী (৪০) তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে জয়নাল মিয়ার ছেলে লিমন (৩০) ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জিন্নাত আলীর ওপর হামলা চালায়। জিন্নাত আলী ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে জয়নাল মিয়া ও তার ছেলে নয়ন আলী আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পথে জিন্নাত আলী মারা যান।
অপরদিকে আহত জয়নাল মিয়া ও নয়ন আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আটক ১০ জন থানা হেফাজতে আছেন।”
রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “পরবর্তীতে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি বলেন, “জনসাধারণকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”