
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় দ্রুতগতির একটি বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত মিথিলা ভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে মা ও দুই সন্তানের নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনায় ভ্যানচালকও নিহত হয়েছেন।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর-নদীয়া এলাকায় ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত একটি মিথিলা ভ্যান ডোমার থেকে জলঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথে পাঙ্গা মটুকপুর-নদীয়া এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালকসহ চারজনের মৃত্যু হয় এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন নাদিয়াপাড়া এলাকার অলি বর্মনের ছেলে ও মিথিলা ভ্যানচালক পরিমল বর্মন (৪০), একই এলাকার প্রদীপ বর্মনের স্ত্রী প্রতিমা রানি (২৮) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান পিতোসা (৮) ও যাদব (৪)।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। গুরুতর আহত দুইজনকে প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কিছু সময়ের জন্য ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
অপরদিকে জেলার একই উপজেলার ডোমার নীলফামারী সড়কের ধরনীগঞ্জ এলাকায় প্রাইবেড কার ও সিএনজি অটোরিকশায় মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজির ৩ জন গুরুতর আহত হয়। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি আটকের পাশাপাশি চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।