
সবুজ অরণ্য
গত পাঁচ দিনের বিরামহীন বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শহরতলি বোয়ালখালীর নিম্মাঞ্চল। কোথাও হাটুপানি থেকে কোমর সমান পানিতে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। দেখা দিয়েছে নিরাপদ খাবার পানির সংকট। আজ ১১ জুলাই শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির দাপট কিছহটা কমে এলেও এখনো জলমগ্ন উপজেলার নিম্মাঞ্চল। কিছু কিছু এলাকায় এখনো বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। টানা বর্ষণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিন্ম আয়ের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় অব্যাহত রয়েছে সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সেবা কার্যক্রম। এদিকে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে সরকারি বরাদ্দের ৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার। এছাড়া রয়েছে বোতলজাত বিশুদ্ধ খাবার পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন। অপরদিকে বানবাসি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয় ১০টি মেডিকেল টিম। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও দূর্যোগ মোকাবিলা করার সুবিধার্থে সমন্বয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে দূর্যোগ পরিস্থিতি। কোনো এলাকা থেকে অভিযোগ বা সহায়তার আবেদন পাওয়া মাত্রই উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক। উল্লেখ্য যে, দূর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে গত (১০ জুলাই) শুক্রবার জেলার লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এই ৭টি উপজেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় বোয়ালখালীর পানিবন্দি মানুষের পাশে থেকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেন।