নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি হাদি পাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, প্রাণনাশের হুমকি, জাল দলিল তৈরি এবং জমি দখলের অপচেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবারের সদস্য আবু তাহেরের বিরুদ্ধে দুই ভাই মো. শরীফ সওদাগর ও নূর মোহাম্মদের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
৬ জানুয়ারি আনুমানিক সকাল ৮ ঘটিকার সময় দিকে পতেঙ্গা থানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি এলাকার হাদি পাড়া ১ নং গলিতে মো. শরীফ সওদাগর তার ছোট ভাই আবু তাহেরের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে তিনি দাবি করছেন।
এ ঘটনায় ৮ নভেম্বর তারিখে আনুমানিক বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে কেইপিজেড পকেট গেট এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “একই পরিবারের সদস্যের হাতে এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা দুঃখজনক। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”
মো. শরীফ সওদাগর বলেন, “পারিবারিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। বারবার হামলার শিকার হচ্ছি। পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।” হামলার শিকার হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে এসেছি এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এছাড়াও মোহাম্মদ শরীফ সওদাগরের আরেক ভাই নূর মোহাম্মদের পরিবারের পক্ষ থেকেও আবু তাহেরের বিরুদ্ধে পারিবারিক জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল ও প্রতারণামূলক ‘হেবা ঘোষণা’ দলিল প্রস্তুতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোঃ শরীফ সওদাগর জানান সম্প্রতি আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি এই মামলাকে কেন্দ্র করে আমার উপর আবু তাহের হামলা করেছে। উক্ত মামলার নথি অনুযায়ী, তফসিলভুক্ত জমির মূল মালিক ছিলেন মনোহর আলীর পুত্র মোহাম্মদ ইসমাইল। পরবর্তীতে ওয়ারিশ সূত্রে জমিটি তাঁর দুই পুত্র ও তিন কন্যার নামে যায়। ১৯৯৬ সালের একটি বৈধ কবলা এবং ১৯৯৮ সালের একটি বৈধ দানপত্রের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা গোলবাহার খাতুন ও তাঁর ছয় পুত্রের নামে হস্তান্তর হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আবু তাহের অসুস্থ মাকে প্রতারণার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে ১৭৭৯০ নম্বর একটি হেবা ঘোষণা দলিল তৈরি করান। বাদীদের দাবি, এই দলিলটি প্রতারণাপূর্ণ এবং ভাইদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা।
চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আবু তাহের একদল লোক নিয়ে বিতর্কিত জমিতে গৃহনির্মাণের চেষ্টা চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত পক্ষ ওই হেবা দলিল দেখিয়ে জমিটির একক মালিকানা দাবি করেন। পরে তদন্তে বাদীরা জানতে পারেন এটি ২০০৮ সালের বিতর্কিত দলিল।
জমি বিরোধের জেরে ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাদী পক্ষের একজনকে নিজ বাড়িতে গিয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
জিডিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা বাদী ও তাঁর সন্তানকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি এবং হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
উত্তর পতেঙ্গা মৌজার তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে ভিটি, পুকুরসহ মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৩৯ শতাংশ। জমিটি আরএস ও বিএস উভয় জরিপে একাধিক দাগ ও খতিয়ানভুক্ত।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারণা বা জোরপূর্বক হেবা দলিল সম্পাদিত হলে আদালত তা সহজে বাতিল করতে পারেন। বিশেষ করে পূর্বে বৈধ কবলা ও দানপত্র থাকলে পরবর্তীতে একতরফা হেবা ঘোষণার আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
হামলা, মামলা, দলিল জালিয়াতির অভিযোগ, হুমকি ও মানববন্ধন সব মিলিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে।