1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
ব্যবসায়ীকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন - পূর্ব বাংলা
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কাপ্তাই তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং: তুলে ধরলেন বর্তমান সরকারের ১ শত ৮০ দিনের সম্পাদিত কার্যক্রম পূর্ব বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক জাফর হায়াতের ১১তম মুত্যুবার্ষিকী পালন উন্মোচিত হলো এস এম পিন্টু ’অনুপ্রেরণা’ গ্রন্থের মোড়ক প্রাথমিকে নির্বাচিত ১৪ হাজার শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু জাফর হায়াতের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী ১১ মে সোমবার ২৩ ও ২৪ মে খোলা থাকবে অফিস জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন করলেন নতুন এসপি মাসুদ মোঃ আলীর হোটেল গেটওয়ে মদ,জুয়া, ইয়াবা ও অসাজামিক কর্মকান্ড সবই চলে দেখার কি দেখার কেউ নেই? বাজেট অধিবেশন ৭ জুন আনোয়ারায় প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে ওয়ারেন্ট প্রাপ্ত আসামী তবু গ্রেফতার হচ্ছে না

ব্যবসায়ীকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫
  • ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

 

অভিযুক্ত রাজুর বিরুদ্ধেও রয়েছে ৪ থানায়  মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে একটি চুরি, একটি মারামারি এবং তিনটি হত্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাজুর স্ত্রী নারগিছ আক্তার গত ৩০ এপ্রিল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
নারগিছ আক্তার বলেন, তার স্বামী গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাজুর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল বোরহান, সালামত উল্লাহ, টিপু, মঞ্জু ও রুবেল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৪ ডিসেম্বর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। পরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা পরিশোধের শর্তে চোখে বেঁধে রাতের আঁধারে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। ১৫ ডিসেম্বর রাতে অপহরণের সঙ্গে জড়িদের নাম উল্লেখ করে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি মামলা রজু করা হয়।
নারগিছ আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী যাদের নাম উল্লেখ করতে বলেছেন তাদের মধ্যে বোরহান ও রুবেলকে রেখে মনগড়া আরও ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় তার স্বামী ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের মামলা বাণিজ্যের কথা তুলে ধরেন। এরপর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে থানার ওসি উল্টো রাজুর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান তার স্বামীর কাছে আপোষের নামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলেন। তিনি চাঁদা না পেয়ে আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে বায়েজিদ থানায় একটি চুরির মামলা করেন। ২৩ এপ্রিল পুলিশ ওই মামলায় রাজুকে ধরে নিয়ে যায়। এরপ থানায় প্রচুর মারধর করেন। পরে ওই মামলার বাদি নিজে আদালতে আপোষনামা দেন। এর পর আদালত রাজুকে দায়মুক্তি দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজু জেলহাজত থেকে বের হতে না পারে সেজন্য ওসি আরিফ চান্দগাও থানার একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলা আটক দেখানোর জন্য আবেদন করান। আদালত সবকিছু দেখে মোঃ রাজুকে আটক না দেখিয়ে মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। এরপর তার স্বামীকে পাঁচলাইশ থানার রাজনৈতিক ৩টি হত্যা মামলায় আটক দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়। ওই মামলাগুলোতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী রাজুর ছেলে নাজমুল হাসান নঈম ও ছোট ভাই আমজাদ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ব বাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার  ভুজপুর থানার শান্তির হাট এলাকার লালমাই, আব্দুর রশিদ মেম্বারের বাড়ীর আবদুর রশিদের পুত্র  মোঃ রাজু (৩৩), (এনআইডি- ৫৯৭৯৫২৯২৪৪) বর্তমানে কয়লার ঘর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় থাকে।

সাজ্জাদ হোসেন খান (বড় সাজ্জাদ) এবং সাজ্জাদ হোসেন (ছোট সাজ্জাদ) এই শীর্ষ দুই সন্ত্রাসীর সহযোগী হচ্ছেন রাজু। পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন খান (বড় সাজ্জাদ) এর নির্দেশে তার অনুসারী রাজু চট্টগ্রামের অপরাধজগতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এলাকায় তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে চলছে দখল, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাস।
রাজু পেশায় একজন শ্রমিক বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে আওয়ামী পন্থী শ্রমিকদের সহায়তা নিয়ে সে কেডিএস গার্মেন্টস এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে। শুরুতে সে শ্রমিক থাকলেও পরবর্তীতে শ্রমিকের সরদার হিসেবে নিজেকে আবির্ভূত করে। গামেন্টস এলাকায় সন্ত্রাস নৈরাজ্য চাঁদাবাজি করায় তার পেশা হয়ে দাঁড়ায়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ থাকায় কেডিএস কর্তৃপক্ষ তাকে তাদের গার্মেন্টস এলাকায় নিষিদ্ধ করে। তার দৃশ্যমান কোন আয়ের পথ না থাকায় এক পর্যায়ে সে চাঁদাবাজি শুরু করে। গার্মেন্টস এলাকায় জুট ব্যবসা হস্তক্ষেপ করে। ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা, তাদের অপহরণ করা এমনকি জুট কাপড়সহ জুটের গাড়ি অপহরণ করা ছিল তার নৈমিত্তিক বিষয়। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ডবল মার্ডারে যে অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলোও বড় সাজ্জাদ ছোট সাজ্জাদ সহ রাজুকে দিয়েছিল বলে জানা গেছে। সন্ত্রাসীদের সহযোগী রাজু চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, হত্যাকান্ড, গুমের চেষ্টাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজু শিল্প কারখানাগুলোর জুট, পলি, কার্টুন, শ্রমিকদের নাস্তা ও এক্সেসরিজ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিকট হতে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে যুক্ত। ক্ষমতার পদ পরিবর্তনের পর রাজু সন্ত্রাসী কায়দায় ওই ব্যবসাগুলো অবৈধ দখলে নেওয়ার চেষ্টাসহ আদিপত্য বিস্তার করছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কারখানার ব্যবসা দখলে নিয়েছেনও। এতে পোশাক শিল্পে বিরাট অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।
খুন, জায়গা দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, অপহরণ থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে সন্ত্রাসী রাজু। মূলত বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং প্রতিষ্ঠান চাঁদাবাজি-লুটপাট তার পেশা। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাদের চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি চলতে থাকে। আসামী রাজুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারি মামলা রয়েছে। সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রোফতার হলেও কিছুদিন না যেতেই জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে,  পাঁচলাইশ , খুলশী  মানিকছড়ি ও কোতোয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla