
অভি পাল:
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। আকস্মিক এই বন্যায় তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, ভেসে গেছে গবাদিপশু আর পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো মানুষ। ঘরবাড়ি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম সংকটে পড়া এই বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় দুর্গত এলাকার প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের তৎপরতা এখন তুঙ্গে।
দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়াতে আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ইলশা ওয়ার্ডে এক জরুরি ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান এবং বাঁশখালী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) মো. রুহুল আমিন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে বন্যাকবলিত ১০০টি পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে ১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য ২০০ প্যাকেট শুকনো খাদ্যসামগ্রী এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হয়। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয় বন্যাজনিত কারণে প্রাণ হারানো দুই শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে। শোকসন্তপ্ত এই দুই পরিবারের প্রত্যেকের হাতে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকার জরুরি আর্থিক অনুদান তুলে দিয়ে সরকার তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সরকার ও প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে মাঠে কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খুব দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করে স্থায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি না হওয়া এবং শেষ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষটি ঘরে না ফেরা পর্যন্ত এই উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পুরোদমে জারি থাকবে।