
নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্ণফুলী নদীর বাকলিয়া অংশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে লোক দেখানো অভিযানের অভিযোগ উঠেছে। বাকলিয়া থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও বাস্তবে বালু সিন্ডিকেটের কার্যক্রম থামেনি। বরং প্রশাসনের সাথে ‘চোর-পুলিশ’ খেলে রাতের আঁধারে দ্বিগুণ উৎসাহে চলছে বালু উত্তোলন ও পরিবহন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটা করে অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের পর কিছুক্ষণ পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই পাল্টে যায় চিত্র। সন্ত্রাসী বাহিনীর পাহারায় ট্রাক ও ডাম্পারগুলো আবার সারিবদ্ধ হতে শুরু করে।
সবচেয়ে অবাক করা দৃশ্য দেখা গেছে নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায়। সেখানে বালু মহালের সামনে পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও তার পাশ দিয়েই চলছে বালু পরিবহন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসী বাহিনী পাহারায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। রাত যত গভীর হচ্ছে, ড্রেজার ও ট্রাকের আনাগোনা তত বাড়ছে।
বালু মহলের দায়িত্বরত এএসআই নাসিরকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি বন্ধ করার, কিন্তু মাত্র ২ জন কনস্টেবল দিয়ে সব সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে পারব না, ওসির সাথে কথা বলেন।”
আগের মতোই এই বালু সাম্রাজ্যের মূল হোতা হিসেবে নাম আসছে ডজন মামলার পলাতক আসামি সোলাইমানের। অভিযোগ রয়েছে, বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান-এর পরোক্ষ মদদেই এই সিন্ডিকেট এতোটা বেপরোয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনকে মাসিক ভিত্তিতে মোটা অংকের ‘টোকেন ফি’ দিয়েই এই কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “সন্ধ্যার পর থেকেই বালু উত্তোলন শুরু হয়। মাঝে মাঝে পুলিশ আসে, কিন্তু কাজ বন্ধ হয় না। পুলিশ থাকা অবস্থায় বালুর ট্রাক চলে গেলে আমরা কার কাছে বিচার চাইব?”
অনিয়ন্ত্রিত এই উত্তোলনের ফলে কর্ণফুলী তীরের বাসিন্দা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযানের কার্যকারিতা এবং পুলিশের সামনে বালু উত্তোলনের বিষয়ে বাকলিয়া থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পূর্বের মতোই জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে তারা বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত কাজ করছেন।
প্রশাসনের নাকের ডগায় পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন চলে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নীরবতা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতাই কর্ণফুলী নদীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ‘বালু সম্রাটদের’ থামানো অসম্ভব।