
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী, বাকলিয়া-চকবাজারের আংশিক) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন প্রত্যাশী, সাবেক ছাত্রনেতা, সাংবাদিক ও সমাজসেবক মো: আলমগীর নূর তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এলাকাবাসীর সামনে এসেছেন। তিনি দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে চট্টগ্রাম-৯ আসনকে একটি মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
পরিচয়: মাটি ও মানুষের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণকেন্দ্র বাকলিয়া ও কোতোয়ালী থানাধীন এলাকায় আলমগীর নূরের পারিবারিক শিকড় সুগভীর। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ সওদাগর-এর কনিষ্ঠ সন্তান। তাঁর পিতা বৃহত্তর চট্টগ্রামের একজন ‘সিংহ পুরুষ’ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন। এমনকি, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বয়ং তাদের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে শরিক হন। এই পারিবারিক পটভূমি থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে দীক্ষিত এবং দীর্ঘ তিন দশক ধরে সক্রিয় রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সামাজিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
দুই দশকের সংগ্রাম ও নৈতিক অবস্থান
আলমগীর নূর তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সুবিধা হাসিলের রাজনীতিকে ঘৃণা করে নীতি ও আদর্শের জন্য উৎসর্গীকৃত থেকেছেন। ১/১১ সরকারের দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও জেল-জুলুম মোকাবিলা করেও তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শে অটল ছিলেন। তাঁর মূল দাবি, রাজনীতি জনগণের জন্য আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের নাম, কোনো সুযোগ নয়।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছাড়াই যুগান্তকারী অর্জন
তিনি কোনো রাষ্ট্রীয় পদ বা ক্ষমতা ছাড়াই গত দুই যুগে জনগণের স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, যা তাঁর প্রতিশ্রুতির ভিত্তি তৈরি করেছে:
গ্যাস সংযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব: চট্টগ্রামে ৩০ হাজারসহ সারাদেশে ২ লক্ষ ১৫ হাজার আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় তিনি সরকারি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিঃস্বার্থভাবে রুখে দাঁড়িয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে গ্রাহকদের অধিকার আদায়ের আইনি ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
পরিবেশ ও নদী রক্ষা: তাঁর সংগঠন বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন (নাপসা)-এর মাধ্যমে গত ২০ বছর ধরে কর্ণফুলী নদী দখলমুক্তকরণ, দূষণরোধ এবং নগরীর খাল পুনরুদ্ধারে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
জলাবদ্ধতা ও খাল পুনরুদ্ধার: তৎকালীন সময়ে সর্বদলীয় রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রায় ৭ বছর আগে বাকলিয়া বির্জাখালকে ভূমিদস্যুদের অবৈধ দখল ও দূষণমুক্ত করেন।
ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম রক্ষা: আন্দোলনের মাধ্যমে ‘মোস্তফা হাকিম স্টেডিয়াম’ নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করিয়ে বর্তমান ‘বাকলিয়া স্টেডিয়াম’ নামকরণ করান।
অবকাঠামো উন্নয়ন: ইসহাকের পুল, মাস্টার পুল ও আব্দুল লতিফ হাটখোলা ব্রীজের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের তিনি একক আন্দোলনকারী ও সম্মুখ যোদ্ধা ছিলেন।
আগামীর স্বপ্ন ও মডেল আসন গড়ার পরিকল্পনা
আলমগীর নূর মনোনয়ন পেলে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়ন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে:
“উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি” গঠন: প্রবীণ, শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, উদ্যোমী তরুণ ও নারী নেতৃত্ব সহ সমাজের বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের মাধ্যমে পুরো আসনের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বাসযোগ্য মডেল এলাকা: এই আসনকে উন্নয়নবান্ধব, জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও শিক্ষাবান্ধব হিসেবে সারা দেশের মধ্যে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য: বাকলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাকলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বাকলিয়া মহিলা কলেজ, বাকলিয়া ক্রীড়া সংস্থা, বাকলিয়া কারিগরী ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় এবং বাকলিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকে মূল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তারুণ্যের চট্টগ্রাম ও জেন-জি (Gen-Z) ভাবনা: তরুণদের জন্য বিশ্বমানের আইটি ট্রেনিং সেন্টার, ফ্রিল্যান্সিং হাব, দ্রুতগতির ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন এবং উদ্যোক্তা সহায়তায় ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠনের অঙ্গীকার করেছেন।
নারী উন্নয়ন ও নিরাপত্তা: কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ জোন ও পরিবহন ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
অপরাধমুক্ত সমাজ: কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারী, সন্ত্রাসী ও রোহিঙ্গা অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর হস্তে দমন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনকে পেশাদার বৈধ ব্যবসাবান্ধব হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আলমগীর নূর বিশ্বাস করেন, তৃণমূল থেকে উঠে আসা এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসনে মনোনয়ন পেয়ে জনগণের সেবার সুযোগ লাভের জন্য সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
জনগণের প্রতি আবেদন
তিনি জনগণের কাছে ধানের শীষ মার্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন যে, দায়িত্ব পেলে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এই আসনের ঐতিহ্য, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবেন।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
সাবেক সহ-সম্পাদক (তথ্য ও গবেষণা) চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি
কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক দর্শন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ
চেয়ারম্যান বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন (নাপসা)
ব্যুরো প্রধান দৈনিক মানবকণ্ঠ, চট্টগ্রাম
সাধারণ সম্পাদক: চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিআরইউ)।
সদস্য : চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন।