1. [email protected] : purbobangla :
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পাঠ্যবই না পড়েই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল: তথ্যমন্ত্রী সারাদেশে বিএনপির পদযাত্রা ১১ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গায় ৯ লক্ষ টাকার বিয়ারসহ ২ মাদক কারবারি আটক পলাতক মূল হোতা সু চির মুক্তির পক্ষে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস বিএনপি জামাতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বিএনপির ১০ দফা দাবি মূল্যহীন: তোফায়েল আহমেদ ১ হাজার কোটির ক্লাবের পথে ‘পাঠান’ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রচারনায় সরগরম আদালত অঙ্গন সুফিবাদীদের প্রাণশক্তি আল্লামা আজিজুল হক ইমাম শেরে বাংলা (রহ.) ওফাত বার্ষিকী পালন করলেন সাবেক মেয়র এম. মনজুর আলম

পাহাড়ি সড়ক টেকসইকরণে ২৪৯ কোটি টাকা নয় ছয় !

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০২২
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

রাঙামাটি প্রতিনিধি
বছর পাঁচেক আগে ২০১৭ সালের ১৩ জুন  ভয়াবহ পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা মহাসড়কের একটি অংশ সম্পূর্ণ ধসে সারাদেশের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল নয়দিন। একই সময় রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কেও রাস্তা ধসে যানচলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল। ভয়াবহ সেই পাহাড়ধসের ঘটনায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রাঙামাটির সড়ক। সেই ক্ষয়ের চিহ্ন শুকায়নি আজও। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো দিনে-দিনে তৈরি হচ্ছে ‘মরণফাঁদে’। তবে সড়কের ঝুঁকি এড়াতে ২০২০ সালে সড়কের পাশে ২৪৯ কোটি টাকার একটি রিটেনিং ওয়াল নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু ২ বছর মেয়াদি প্রকল্পের বর্ধিত সময় চলতি বছরের জুনে শেষ হলেও ভৌতকাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৫ শতাংশ বলে জানিয়েছে সওজ। নির্মাণকাজ ধীরগতিতে হওয়ায় প্রকল্প মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ালেও নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আরসিসি রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। যে কারণে ২ বছরের প্রকল্প তিন বছরে ঠেকেছে। কিন্তু প্রতি বর্ষা মৌসুমে ফের ঝুঁকিতে পড়ে এই পাহাড়ি সড়কগুলো। এ বছরও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কের ৫-৭ স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জনসাধারণের যাতায়াত ও নিরাপদ পরিবহন চলাচলের জন্য বর্ধিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বাসিন্দা ঝিল্লোল মজুমদার জানান, দুই বছর আগে থেকেই নির্মাণ শুরু হয়েছে। কিন্তু অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো নয়। রাঙামাটি-নানিয়ারচর সড়কের বেশিরভাগ স্থানে এখনো আরসিসি রিটেনিং ওয়ালের কাজ শেষ হয়নি। বাকি কাজগুলো পরের বিষয়। একদিকে নির্মাণ কাজে ধীরগতি, আরেকদিকে সড়কের পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখায় সড়ক সংকুচিত হয়ে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গিয়েছে, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বেশকিছু স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে আরসিসি রিটেনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি রাখা রয়েছে, বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে লোহার রডে ধরেছে মরিচা। বেশকিছু ঝুঁকিপূর্ণস্থানে নির্মাণ সামগ্রী দেখা গেলেও এখনো পাইলিংয়ের কাজ পর্যন্ত শুরু হয়নি। আবার কোথায়ও পাইলিং শেষে রিটেনিং ওয়ালের কাজ ধরা হয়েছে, কোথাও অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। কয়েকটি স্থানে রিটেনিং ওয়াল তোলা হলেও ফাঁকাস্থানে মাটি কিংবা বালি ভরাট না করায় সড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় এখনো কাজে আসছে না।
এছাড়া সড়কের কিছু অংশ ধসে সরু হয়ে গেছে। বরইছড়ি-ঘাগড়া সড়কেরও প্রায় একই দশা। একইচিত্র লক্ষ্য করা গেছে রাঙামাটি-মহালছড়ি ও বগাছড়ি-নানিয়ারচর সড়কেও।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের অক্টোবরে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, রাঙামাটি-বান্দরবান, রাঙামাটি-মহালছড়ি (খাগড়াছড়ি) ও বগাছড়ি-নানিয়ারচর- এই চারটি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আরসিসি (রেইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট) রিটেনিং ওয়াল নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পাহাড়ি সড়কে ভাঙন-ধস ঠেকাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় গৃহীত ২৪৯ কোটি টাকার ব্যয়ের মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সড়কের ঝুঁকি কেটে যাবে। প্রকল্পটির অধীনে চারটি সড়কে ১৫১ স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তন্মধ্যে রাঙামাটি-চট্টগ্রামে সড়কে ৪৯টি, রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে ৪০ ও রাঙামাটি-মহালছড়ি-নানিয়ারচর উপজেলার সড়কে ৬২টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়। চারটি প্যাকেজে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজের কার্যালয় পান। এর মধ্যে প্যাকেজ ১ ও ৪ এর কার্যাদেশ পায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই), প্যাকেজ ২ এর কার্যাদেশ পায় খাগড়াছড়ির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং প্যাকেজ ৩ এর কার্যাদেশ পায় রাঙামাটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাঙামাটি ট্রেডার্স।
সওজ সূত্র জানায়, ২ বছর মেয়াদি (২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছর) প্রকল্পটি বর্ধিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরও এক বছর (২০২২-২৩ অর্থবছর)। জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ২৪২ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তার (৫ হাজার ৪৭০ মিটার) সমপরিমাণ রিটেনিং ওয়াল তৈরির কাজ চলছে। ৫ মিটার, ৬ মিটার ও ৭ মিটার- এই তিনটি পদ্ধতিতে রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ হচ্ছে। বিগত দুই অর্থ বছরে প্রকল্পের ভৌতকাজ সম্পন্ন হয়েছে ৪৫ শতাংশ আর আর্থিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩৮ শতাংশ। সে হিসাবে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাঝে ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা অর্থ ব্যয় হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি গ্রহণের শুরু থেকেই কভিড পরিস্থিতি ও নির্মাণসামগ্রীর দরে উর্ধ্বেগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত শ্লথগতিতে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করায় প্রকল্প অগ্রগতি উল্লেখজনকভাবে দৃশ্যমান হয়নি বর্ধিত সময়ের মধ্যেও। এখন প্রকল্প মেয়াদ বাড়ালেও বর্ধিত সময়ে কাজের পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে কীনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী নেজাম উদ্দিন মিশু জানান, রাঙামাটি-মহালছড়ি সড়কে আমার প্যাকেজের কাজ রয়েঠেঅ পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় মাটি ও বৃষ্টিপাতের সমস্যায় নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করতে বেগ পেতে হচ্ছে। আবার শীতকালেও মাটি ভেঙে ভেঙে পড়ে, এরপরও আমরা চেষ্টা করতেছি। আমাদের কাজ এখন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এই সড়কে আমার ৩১ জায়গায় রিটেনিং ওয়ালের কাজের মধ্যে ১৯টি জায়গায় কাজ ধরা হয়েছে। আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স-এনডিই’র প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মমতাজ জানান, প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের দুইটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে এনডিই। প্যাকেজ-১ রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ৪৫-৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। প্যাকেজ-৪ ঘাগড়া-বরইছড়ি সড়কে ৬৫-৭০ শতাংশ কাজ হয়েছে।
শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 purbobangla