1. admin@purbobangla.net : purbobangla :
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
সিএমপি’র নতুন কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় নলছিটিতে প্রাইভেটকারে ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক-২ বীণারানী দে’র শোক সভায় বক্তারা মানুষের কল্যাণ সাধনের মাঝে জীবনের মহত্ব চট্টগ্রাম বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবসায়ী গ্রুপের নির্বাচনের প্রার্থী পরিচিতি অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে সিলেটের বন্যা দুর্গত ৭ শতাধিক পরিবারে ত্রাণ বিতরণ দুর্নীতিঃ চাকরি গেলো ডিএসসিসির কর কর্মকর্তাসহ ৩৪ জনের ‘লিগ্যাল এইড দরিদ্র বিচার প্রার্থীর শেষ আশ্রয়স্থল’ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের অগ্নি নির্বাপণ জরুরী উদ্ধার ও বহির্গমন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও মহড়া অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ৬৮০পিচ ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নবাবগঞ্জে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা

মুড়ারবন্দ দরবার শরীফে হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন সিপাহ্শালার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সৈয়্যদ সফিক আহমদ সফি চিশ্তী

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন সিপাহ্শালা (র.) মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাগদাদে বসবাস করেন এবং দ্বীন শিক্ষা নেন। পরে দিল্লীতে আসেন এবং ফিরোজ শাহ্ তুকলক এর শাহী সৈন্যদলে চাকুরীতে যোগ দেন। কথিত আছে রাজা গৌর গোবিন্দ বোরহান উদ্দিন এর পুত্র হত্যা দায়ে দিল্লীতে ফিরোজ শাহ্ তুকলক এর কাছে নালিশ আসে। তারপর মদীনা শরীফে হুজুর পাক (স.) এর রওজা শরীফ এ নালিশ করেন। তখন গৌর রাজা ছিল গোবিন্দ্র। তরফের ইতিহাসে তখনকার রাজা ছিল আছক নারায়ণ। এই রাজার তৎকালিন সময়ে রাজ্যের নাম ছিল তুঙ্গাচল বা বিশগাও তখন বোরহান উদ্ধীন এর ন্যায় হেলিম উদ্ধীন উরফে রোকন উদ্দিন উনার ছেলেকে গরু জবেহ আখিকা করার দায় হত্যা করে। উনিও দিল্লীতে বাদশার কাছে নালিশ করেন এবং তারপর মদীনায় হুজুরে পাক (সা.) রওজা মোবারকে নালিশ করেন। কথিত আছে যে ফিরোজ শাহ্ তুকলক সিকান্দার শাহ্ গাজিকে সেনাসামন্ত দিয়ে গৌর রাজ্যে পাঠান। কয়েক দফা যোদ্ধের পর সিকান্দার শাহ্ গাজী হেরে যান, বার বার হারার পরে দিল্লীর বাদশাহ্ নজ্জোম (গনক) ডাকান। গনকগণ বাদশাহ্কে বললেন গৌরবের আবহাওয়া অনুকুলে নয় ও রাজা গৌর গোবিন্দ্র যাদু বিদ্যা জানে। এজন্য আপনার সৈন্য হারতেছে তখন রাজা বললেন কী করলে জয় হতে পারে, তখন গনকগণ অলৌকিক শক্তি ছাড়া জয় হবে না। বাদশাহ্ বললেন অলৌকিক শক্তি আমি পাব কোথায়। গনকগণ বললেন আপনার সৈন্যদের মধ্যে এমন একজন সৈনিক আছে তার দ্বারা সম্ভব। তখন বাদশাহ্ বললেন আমার তো লক্ষ লক্ষ সৈনিক আছে কি করে আমি চিনবো। তখন গনকগণ বললেন অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ঝড় বৃষ্টি তুফান হবে, তুফান যখন লণ্ড ভণ্ড করবে সবকিছু উলট পালট করবে যার তাবুতে তখন বাতি জ্বলবে সেই জয় করতে পারবে। কিছুদিন পর হঠাৎ করে একদিন ঝড় বৃষ্টি ও তুফান প্রচণ্ড বেগে শুরু হল। বাদশাহ্ ছদ্মবেশে বাহির হইলেন, দেখলেন ঝড়ে সব তাবু  লণ্ড ভণ্ড হয়ে গিয়েছে। হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (র.) তাবুতে বাতি জ্বলতেছে ঝড়ের সময় এবং গিয়ে দেখেন উনি নামাজরত। নামাজের সালাম ফিরিয়ে দেখেন ফিরোজ শাহ্ তুকলক দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তখন উনি বললেন (সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (র.) কেন আসছেন আপনি)। তখন বাদশাহ্ উত্তর দিলেন আপনি গৌর রাজ্যে যেতে হবে। তখন হযরত সৈয়দ শাহ্ নাসির উদ্দীন (র.) বললেন যে আমি হুজুর পাক (সা.) ইশারা পেয়েছি, আমায় পূর্ব দিকে যেতে হবে এই জন্য উনি মুচকি হাঁসলেন। কথিত আছে, যে হালাল রিজিক খাওয়ার জন্য সাধারণ সৈনিকে ভর্তি হন। তখন বাদশা উনাকে সৈনিকদল দিয়ে সেনাপতি করে গৌর রাজ্যের দিকে পাঠালেন। প্রতি মধ্যে হযরত শাহজালাল হযরত ইয়ামনি (র.) সঙ্গে উনার সাক্ষাত হয়। তখন হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) বলেন নারায়ে তাকবির আল্লাহুআকবার এই ধ্বনি দিয়ে কে আসতেছে, দুই দল একত্রিত হয়ে যাত্রা শুরু হল যুদ্ধের জন্য। তখন হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) বললেন আপনি সিপাহ্শালা তখন হযরত সৈয়দ শাহ্ নাসির উদ্দীন (র.) বললেন আপনি দলের প্রধান। কোনো কোনো লিখক এর মতে হযরত শাহজালাল (র.) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল, কেও কেও বলে লখনৌতে আবার অনেকে বলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাও এ সাক্ষাৎ হয়েছিল। যাত্রা শুরু হওয়ার পরে বিশগাও বা সপ্ত গ্রামে রাজা আছক নারায়ণের কথা হযরত সৈয়দ শাহ্ নাসির উদ্দীন (র.) হেলিম উদ্দীন উরফে রোকন উদ্দিন পুত্র হত্যা কথা হযরত শাহজালাল ইয়ামনিকে (র.) বললেন। তখন হযরত শাহজালাল (র.) বললেন আগে আমাদের গৌরে যেতে হবে। যখন অগ্রসর হলেন তখন যাদুকর রাজা গোবিন্দ্র আগুনের বান দিল। তখন হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) ফু দিলেন আগুন নিবে গেল তারপর যাদু বলে পাথরের বান দিল, তখন হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) বললেন সিল ইট যাও (পাথর সরে যা) তারপর পাথর সরে গেল এবং তখন হইতেই গৌর রাজ্য নাম হল শ্রী (সিলেট)। তারপর সুরমা নদী পার হওয়ার সময় গোবিন্দ্র যাদুবলে নৌকাগুলো সরিয়ে দেয়। তারপর হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) উনার আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে জায়নামাজ বিছিয়ে সুরমা নদী পার হয়ে গেলেন সবাইকে নিয়ে। এদিকে রাজা গৌর গৌবিন্দ্র ছিল অত্যাচারী রাজা, তার মা তাকে ডেকে বললেন (গৌবিন্দ্রকে) বাবা, আমি দেখতেছি তোমার রাজ্যে মহাপুরুষদের আবির্ভাব হইতেছে, তুমি তাদের কাছ থেকে বাঁচতে হলে ও রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে, এই মহা পুরুষদের আদেশ নিষেধ মেনে চলতে হবে, না হলে তোমার রাজত্ব যাবে প্রাণ ও যাবে। এই মহা পুরুষগণ রাজত্বের এবং ধনের পাগল নন। তারা একমাত্র ঈশ্বর পাগল। গোবিন্দ্র বললো আমার যাদুর কাচে কেহো টিকবে না। তখন গোবিন্দ্রে মা বললো তোমার সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। গোবিন্দ্র বললো মা কিভাবে বললেন তোমার যে ইন্দ্র কোপ সেটা কাজ করবে না এবং তোমার যে তীর-ধনুক মন্ত্র বলে সরজ্জুন করো এবং মন্ত্র বলে চালাও, মহাপুরুষরা এক নিমিশে নামের বলে নষ্ট করে ফেলবে। এক এক পরিক্ষা নিরিক্ষার পর হযরত শাহ জালাল ইয়ামনি (র.) সবাইকে একত্রিত করে বললেন কাহার ফজর ও আছরের নামাজ কাজা হয় নাই, তখন হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (র.) বললেন আমার নামাজ কাজা হয় নাই। হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (র.) বলেন আযান দেন। আযানের ধ্বনিতে রাজা গৌর গোবিন্দ্রের সাত তালা দালান ভেঙে খান, খান, হয়ে গেল। তার পর রাজা গোবিন্দের মায়ের আজ্ঞা অনুযায়ী আউলিয়াদের আস্তানায় তার চর পাঠাইয়া বলো যে তীর ধনুক যদি সরজ্জুন করতে পারেন, তাহলে আমি আপনাদের হুকুম মেনে নেব, তখন হযরত শাহজালাল (র.) হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (র.) কে পাঠালেন এবং হযরত কালেমা পড়ে একটানে তীরমধুব্রæক টিকে সরজ্জুন করে, গোবিন্দ্রের দিকে ছুড়ে দিলেন। তারপরও গৌর গোবিন্দ্রের পাথর মন নরম হলো না, সে সাপুনীয়ার খাচার ভিতর সাপ হয়ে দেখার জন্য এসেছিল। তখন হযরত শাহজালাল (র.) ধ্যানের মধ্যে দেখতে পারলেন, সে সাপুরিয়ার খাচার মধ্যে তখন হুজুর বললেন তুই আমাকে সাপ হয়ে দেখতে আইলি, তখনি গোবিন্দ্র সাপের খাচা সহ পালাইয়া গেল, অদ্যাবধি তার কোনো খরব মিলেনি।
সিলেট বিজয়ের পর হযরত শাহজালাল (র.) হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্ধীন সিপাহ্শালা (র.) বললেন, আপনি ওজ তরফ চলে যান, যেখানে আছক নারায়ণ আছে। তখন হইতেই এই রাজ্যের নাম হয় তরপ রাজ্য। কথিত আছে এখানে উনার সাথে যুদ্ধ হয়, শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যায়। হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন সিপাহ্শালার (র.) ৩৬০ আউলিয়ার প্রধান সেনাপতি উনার সৈন্য-সমন্ত্য ছাড়াও সঙ্গী ১২০ আউলিয়া নিয়া মুড়ারবন্দে উপ¯ি’ত হন, উনার ফয়েজ বরকত ও রহমতে এই জায়গায় অনেক হিন্দু, খৃষ্টান, মুসলমান হয়। কথিত আছে উনি ওফাহে পূর্বে-ভক্ত ও মুরীদানের অনুরাগী অনুযায়ী সবাইকে বললেন, আমি যদি ওফাৎ হই আমার (রওজা) মাজার আপনারা পূর্ব পশ্চিমে দিবেন, তারপর উনার ওফাতৎ হলো এবং সকল মুসল্লীগণ ও অন্যরা দ্বিমত্ত পৌষণ করতে লাগলেন, বাংলাদেশের (কাবার পূর্বে যে নিয়ম আছে সে মতে হবে।) তারপর নিয়ম অনুযায়ী উত্তর দক্ষিণে দেওয়া হলো চল্লিশ কদম আসার পর বিরাট শব্দ করে মাজার ঘুরে গেল। এখনও পূর্বপশ্চিমে মাজার শরিফ অব¯ি’ত। সুবাহান আল্লাহ। পরবর্তী পর্যায়ে সিপাহ্শালার হযরত সৈয়দ শাহ্ নাসির উদ্দীন (রহ.) বংশের বহু অলি আউলিয়াগণের আবির্ভাব ঘটে, যার ফলে এতদ্ঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও তাছাউফ শিক্ষার প্রভাডব উল্লেখযোগ্য। সিপাহ্শালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহ.) বংশীয় আধ্যাত্মিক প্রাণপুরুষদের মধ্যে যারা বিশেষ উল্লেখযোগ্য তারা হলেন- তৃতীয় অধঃ ¯’ন পুরুষ হযরত সৈয়দ শাহ ইব্রাহীম (রহ.) যিনি অগাধ জ্ঞানচর্চার জন্য দিল্লীর রাজদরবার হতে “মালেকুল উলামা” খেতাবে ভ‚ষিত হন, ৪র্থ অধঃ¯’ন পুরুষ হযরত সৈয়দ শাহ বন্দেগী ইস্রাঈল (রহ.) তিনিও চাচার ন্যায় দিল্লীর রাজদরবার থেকে “মালেকুল উলামা” খেতাবে ভ‚ষিত হন। ৫ম অধঃ¯’ পুরুষ হযরত সৈয়দ শাহ ইলিয়াছ কুদ্দুছ কুতুবুল আউলিয়া (রহ.) যিনি ৩৬ বৎসর চিল্লায়ে মাকুস (বৃক্ষডালে পা উপরের দিকে মাথা নিচের দিকে ঝুলে আল্লাহর জিকির করা) সম্পন্ন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে বংশধরদের মধ্যে ভৈবাহিক কারণে, সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা পীর মুরীদি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ¯’ানে গিয়ে বসতি ¯’াপন করেন। তবে মুড়ারবন্দ দরবার শরিফে একটি বংশ শাখা রয়ে যান এবং বংশ পরম্পরায় মাজার শরিফের খেদমত ও যুগে যুগে ভক্ত মুরিদদের তাছাউফ শিক্ষা দানে নিয়োজিত রয়ে গেছেন। মুড়ারবন্দ বংশ শাখার উল্লেখযোগ্য আধ্যাত্মিক পুরুষ হলেন হযরত সৈয়দ শাহ সাঈদ আহাম্মদ চিশ্তী (রহ.) যিনি চিশতীয় তরিকার কুতুবীয়া ছিলছিলার প্রতিষ্ঠাতা। তারই বড় ছেলে (লেখক) সৈয়দ শফিক আহমদ চিশ্তী হলেন মুড়ারবন্দ দরবার শরিফের বর্তমান মতোয়াল্লী।
প্রতি বৎসর ৩০ শে পৌষ-২রা মাঘ ৩ দিনব্যাপী ভাবগম্ভীর্যের সাথে মুড়ারবন্দ দরবার শরিফের পবিত্র ওরশ মোবারক পালন হয়। উক্ত ওরশ মোবারক সিপাহ্শালার সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দীন (রহ.) সহ ১২০ আউলিয়ার স্মরণে উদযাপিত হয়।
এতে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত, মুরিদান, আশেকান, জিয়ারতকারীর সমাগম ঘটে।

শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 purbobangla