মাহমুদুল হক আনসারী
সব জায়গায় জনভোগান্তি বিশৃংখলায় ভরপুর। মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা ভোগান্তির সাথেই লেগেই আছে। সব ধরনের ভোগ্য পণ্য আর ঈদ বাজারে অধিক অর্থ ব্যয় করে ক্রেতাকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। মুসলিম হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান আরও যত জাতি রয়েছে, সকল ধর্মের সংস্কৃতি, দিবস পৃথক পৃথকভাবে পালিত হয়। সব ধর্মের অনুসারীরা তাদের নিজস্ব রীতি নীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে নতুন জামা কাপড় এর চাহিদা থাকে। এটি বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহ্য।
বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ বাঙালির ঘরে ঘরে আবার এসেছে। বাংলা সনের হিসাব, বাংলা গণনের বছর শুরু হয়েছে। আবার এসেছে বাংলা নববর্ষ। মুসলমানদের রোজা, রমজান, ঈদ উদযাপনের মধ্যেই বাংলা নববর্ষের আগমন। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সকলেই আমরা বাঙালি জাতি। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম সংস্কৃতি জাতীয় কৃষ্টি কালচার লালন-পালন ও অনুসরণ-অনুকরণ করবে।
নানা গোত্র, নানা জাতি ও কৃষ্টি কালচার দেশ বাংলাদেশ। যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে কোনো বাঁধা থাকবে না। জনগণের দেশ জনগণের সরকার। সকল ধর্মের সমান অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার সমান তালে সকলেই ভোগ করবেন। সেটিই আমার বাংলাদেশ। ঈদ, পুজো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কেউ কারো প্রতিপক্ষ হবে না। সকল গোত্রের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা অধিকার নিশ্চিত থাকবে। সেটিই বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও অহংকার। বাংলা নববর্ষ, বাংলা সন এবং নববর্ষের ঐতিহ্য। বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম-গোত্র সকলের মধ্যেই আন্তরিক ভালোবাসা এবং গভীরভাবে পালিত হয়।
দিবস পালন উদযাপন বিশৃংখলা উশৃংখলতার কোনো সুযোগ নেই। বাঙালি জাতির ভাষা সংস্কৃতিতে ধর্মকে অযাচিতভাবে টেনে এনে বিতর্ক বিশৃংখলার প্রয়োজন নেই। বহু গোত্র, বহু ধর্ম, মসজিদ, গীর্জা, মন্দিরের বাংলাদেশ। ছোট্ট এই দেশে সকাল, বিকাল, বাজার, স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম গোত্র সবার সাথে মিলনমেলা আড্ডা হয় প্রতিনিয়ত। এটির নাম বাংলাদেশ এটিই আমাদের সংস্কৃতি ও সম্পৃতি।
শৃংখলা ধর্ম কর্ম সংস্কৃতি এবং গোত্রের মধ্যে থাকতে হবে। জাতীয় দিবস জাতীয় চরিত্র নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কের সুযোগ নেই। শৃংখলার ও ভোগান্তিহীন জীবনযাপন জাতীর উন্নত চরিত্র হওয়া চায়। ধর্ম, গোত্র, সংস্কৃতির কারণ যেনো ভোগান্তি ও বিশৃংখলা না হয়। জাতীয় ও শৃংখলা গোত্রে থাকা চায়। কোনো দিবস ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে জনভোগান্তি কাম্য নয়। জাতীয় হিসেবে আমরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে চাই। তবে কাউকে ছোট করে নয়। শৃংখলা ভোগান্তিহীন জীবন যাপন সকলের নৈতিক প্রচেষ্টা থাকা চায়। জাতীয়ভাবে শৃংখলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখা চায়। কাউকে যন্ত্রণা আর ভোগান্তির মধ্যে ফেলে জাতীয় ঐক্য সফল করা সম্ভব নয়। আসুন ভোগান্তিহীন ও সুশৃংখল সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখি।