ঢাকা-১ আসন তথা দোহারে ২০১৮ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তিই ঘটল। এবারও বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে হেরে গেল যমুনা গ্রুপ। এই আসনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। বিপরীতে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। ঢাকা-১ আসনে আবারও এমপি নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। দ্বাদশ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সালমান এফ রহমান ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৫ ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলামকে পরাজিত করেন। সালমান এফ রহমান মোট ভোট পান ১ লাখ ৫০ হাজার ৫ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সালমা ইসলাম পান ৩৪ হাজার ৯৩০ ভোট।
এই দুই গ্রুপের একাধিক গণমাধ্যম রয়েছে। নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এ দুই গ্রুপের গণমাধ্যমগুলোর উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে বেলাশেষে ফলাফল ২০১৮ সালের মতোই। সালমানের কাছে হেরে গেলেন সালমা।
গতকালের সারা দিনের নির্বাচনেই এ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যেও ছিল চরম উত্তেজনা। ঢাকা-১ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলাম। গতকাল রবিবার সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে এই অভিযোগ করেন তিনি; তবে নৌকার প্রার্থী সালমান এফ রহমান বলছেন, ভোটে ‘পরাজয় জেনেই’ এমন অভিযোগ সালমার।
ঢাকার দোহারের শাইনপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকালে ভোট দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সকাল পৌনে ১০টায় নিজ গ্রামের এই কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে আসেন তিনি। ভোট দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। সবাই ভোট দিতে এসেছেন। আপনারাও দেখছেন এখানে ভোটাররা আসছেন। তারা ভোট দিচ্ছেন।’
বিভিন্ন কেন্দ্রে লাঙ্গলের প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সালমান বলেন, ‘লাঙ্গলের প্রার্থী গত নির্বাচনেও এ কাজ করেছেন। আমার তো মনে হচ্ছে এবারও তিনি তাই করবেন। আপনারা দেখবেন ১২টা-১টার দিকে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেবেন। উনি জানেন নির্বাচনে জিততে পারবেন না। তিনি ভুয়া অভিযোগ করেন।’
এ ছাড়া তৃণমূল বিএনপির মুফিদ খান (সোনালি আঁশ) ৪৭৩, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শামসুজ্জামান চৌধুরী (একতারা) ৫০৮, গণফ্রন্টের শেখ মো. আলী (মাছ) ৫৩১, বাংলাদশের ওয়ার্কার্স পার্টির মো. করম আলী (হাতুড়ি) ৬৪২ ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আ. হাকিম (আম) ৪৩০ ভোট পেয়েছে।