1. admin@purbobangla.net : purbobangla :
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
সীতাকুণ্ডে ৫টি চোরাই গরু ১টি পিকাপ একটি দেশী অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৩ জন বিশ্বের প্রভাবশালীদের তালিকায় আলিয়া জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের সদস্যপদ লাভের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো সমাজসেবক মুহাম্মদ ইয়াছিন সওদাগর সংবর্ধিত বেড়েই চলছে সোনার দাম বঙ্গবন্ধু টানেলে পুলিশ-নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের জরুরি যানবাহনের টোল মওকুফ দক্ষিণ হালিশহরে ২৯০ জেলে পরিবারের মাঝে চাউল বিতরণ কর্মসূচি . ঝালকাঠির গাবখান সেতুর টোল প্লাজায় প্রাইভেট কারসহ কয়েকটি গাড়িকে ট্রাকের চাপা, নিহত ১১ পতেঙ্গা লিংক রোডে পাজেরো গাড়ির ধাক্কায় বিদেশি নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু আনোয়ারায় আগুনে পুড়লো উঠান মাঝির ৪৬ ঘর

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  • ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি ছিল সর্বজনীন
তারাপদ আচার্য্য
প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রভাষা থেকে শিক্ষার মাধ্যম এবং জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি ছিল সর্বজনীন। যাকে সামনে নিয়ে আমরা এগিয়েছি অবিচল লক্ষ্যে, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনে।

ফেব্রম্নয়ারি ভাষা শহীদের মাস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাস। ফেব্রম্নয়ারি বাঙালি জাতির শোকাবহের মাস। ফেব্রম্নয়ারি মাস এলেই বাংলা একাডেমিতে বইমেলা শুরু হয়। এই বই মেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। এই মেলা একে অপরের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করে। বাংলাদেশের মানুষের গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও গ্রন্থপ্রীতি যুক্ত হয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ধীরে ধীরে বাঙালির সাংস্কৃতিক জাগরণ আর রুচি নির্মাণের এক অনন্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পরিগ্রহ করেছে। কয়েক বছর ধরে মেলার আকৃতি বেড়েছে। মেলা সম্প্রসারিত করে একাত্তরের বিজয়গাথা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনা হয়েছে। ফলে মেলার খোলামেলাভাব যেমন বজায় রয়েছে তেমনি পরিবেশও অনেক সুন্দর হয়েছে। মেলায় প্রকাশকও বেড়েছে, বেড়েছে লেখক ও বইপ্রেমী মানুষ। এই মেলা বাঙালির আবেগ, বাঙালির গর্ব।

একুশ আমাকে বারবার ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’র কথা মনে করিয়ে দেয়। একুশ আমাকে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দুর্বার আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। একুশ আমাকে ‘বায়ান্ন’র কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মায়ের মুখের ভাষা কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রাণ হারাল সালাম, বরকত, রফিকের মতো বীর ভাষাসৈনিকরা। ঢাকার পিচঢালা পথ শহীদের রক্তে রঞ্জিত হলো। কিন্তু বাঙালি জাতি সব প্রতিবন্ধকতাকে দলে-মুচড়ে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোচ্চার কণ্ঠে সমস্বরে ধ্বনি তুলল- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে এখনো সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালু হয়নি। ভাষার মাস এলেই আমরা সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালুর দাবি তুলি। মাস শেষ হলেই আমরা আবার ভুলে যাই। বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে যে করেই হোক দেশের সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালু করতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা প্রতিটি বাঙালি সত্তায় মিশে আছে। বাঙালি জাতিসত্তার স্মারক এই অমর একুশে। বাঙালির আত্মপরিচয় ও আত্মানুসন্ধানের প্রধান প্রতীক। এরই আলোকে এবার উদযাপিত হবে ভাষা আন্দোলনের ৬৭তম বছর। ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত পথ ধরেই এসেছে মহান মুক্তিযুদ্ধ। মাতৃভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির একটি গৌরবময় অধ্যায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধও বাঙালি জাতিসত্তার মূলমন্ত্র। একমাত্র বাঙালি জাতি ছাড়া পৃথিবীর কোনো জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দেয়নি, এত প্রাণ যায়নি অন্য কোনো দেশের স্বাধীনতার জন্যও। এ দুটোই বাঙালির অহঙ্কার। মানুষের ভাষা ব্যবহারের সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেবে বাংলা ভাষার অবস্থান সপ্তম। আমাদের মাতৃভাষার জন্য এ এক বিশাল গৌরব। পৃথিবীতে চার সহস্রাধিক ভাষার মধ্যে সপ্তম স্থানে থাকা বাংলা ভাষা প্রকৃত অর্থেই দাবি করতে পারে গৌরবের আসন। প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। এ সংখ্যাতত্ত্বও আমাদের মাতৃভাষার গৌরবের অন্যতম ভিত্তি। এ ছাড়াও বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায়। অচিরেই হয়তো এ ঘোষণা আমরা শুনতে পাব। পৃথিবীতে বেদনা ও গৌরবের আশ্চর্যজনক বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে দেশে দেশে। আমাদের রয়েছে গৌরবময় দুটো ঘটনা যার মধ্যে শোক ও বেদনা নিহিত। একটা ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২ সালে যার বিপুল স্ফুরণ ও আত্মত্যাগ হয়েছিল। আর একটা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম, ১৯৭১ সালে। বিপুল আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। মূলত একাত্তরের সূচনাই হয়েছিল বায়ান্নতে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব মানুষ ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে তা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান রক্ষার জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠী মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আর সে কারণে একুশে ভাষার জন্য যুদ্ধ এবং একাত্তরে স্বাধীনতা বা স্বাধিকার অর্জনের জন্য যুদ্ধ প্রকরণগতভাবে ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য একই। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরপরই স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব রোপিত হয়েছিল। সেই রোপিত বীজের নাম ভাষা আন্দোলন, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রতিবাদ উঠেছিল। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে এ সম্ভাবনাময় দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে ‘বাংলাদেশ’ নামে এক ভূখন্ডের লড়াইয়ে লিপ্ত বাঙালি ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়েছে বাংলাদেশের ভাষাপ্রাণ মানুষ সালাম, রফিক, শফিক, জব্বারসহ অনেকেই। মূলত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনই বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের প্রকৃত ভিত্তি। এর রক্তাক্ত পথ বেয়েই বাঙালি স্বাধিকার অর্জনের পথে এগিয়ে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে তমদ্দুন মজলিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত হয়েছে বহু অমর গান। গীত হয়েছে সংগ্রামী গণসঙ্গীত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় ভাষাসৈনিক গাজীউল হক রচিত ও সুরারোপিত গান- ‘ভুলব না, ভুলব না একুশে ফেব্র’, কবিয়াল রমেশ শীল লিখলেন ও গাইলেন- ‘ভাষার জন্য জীবন হারালি/বাঙালি ভাইরে রমনার মাটি রক্তে ভাসালি’। আবদুল লতিফ লিখলেন ও গাইলেন- ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’। আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত ও শহীদ আলতাফ মাহমুদ সুরারোপিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’। অতুল প্রসাদের গানে রয়েছে ভাষার কথা, যে ভাষার জন্য শহীদ হয়েছে বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানেরা। সে গানের ভেতরে খুঁজে পাওয়া যায় সম্ভাবনার বাণী। তার অমর সেই গান- ‘মোদের গরব মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা। তোমার কোলে তোমার বোলে কতই শান্তি ভালোবাসা’। কী জাদু বাংলা গানে, গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে; গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা। গণসঙ্গীত ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে এই জনতা’; ‘নওজোয়ান নওজোয়ান বিশ্বে জেগেছে নওজোয়ান’; ‘যখন প্রশ্ন ওঠে যুদ্ধ না শান্তি, আমরা জবাব দিই শান্তি, শান্তি’। এমনি ধরনের গানে সম্ভাবনার বাংলাদেশের রূপই ফুটে ওঠে। আর এ রূপটি একাত্তরের ২৬ মার্চ বাস্তবায়িত হয়ে ‘বাংলাদেশ’ নামে, আমাদের প্রাণপ্রিয় এ দেশের অভু্যদয় ঘটে; যার মূল প্রেরণা বাঙালির ভাষা আন্দোলন।

বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটেছে বাংলা ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে। যারা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন, তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যারা উচ্চশিক্ষিত, তাদের ৯৯ ভাগই বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারেন না। তারা আঞ্চলিক, প্রমিত, কথ্য, বাংলিশ এসবের মিশেল দিয়ে কথা বলেন। ফলে বাংলা ভাষা তার মাধুর্য, সুষমা ও আকর্ষণ হারাতে বসেছে। এর চেয়ে ভাষিক নৈরাজ্য আর কী হতে পারে?

মাতৃভাষাকে আত্মস্থ বা রপ্ত করা; ওই ভাষায় সুন্দরভাবে কথা বলা গৌরবের হওয়া উচিত। কিন্তু কোথাও বাংলার মর্যাদা দেয়া হয় না। আমাদের আজকের মাতৃভূমি ও মাতৃভাষা সমগ্র জাতির শত-সহস্র বছরের সাধনার ফসল। এখন প্রশ্ন হলো, মাতৃভাষার এত বড় গৌরব ও অর্জনকে আমরা কি সঠিক উপলব্ধি করতে পেরেছি? প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রভাষা থেকে শিক্ষার মাধ্যম এবং জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি ছিল সর্বজনীন। যাকে সামনে নিয়ে আমরা এগিয়েছি অবিচল লক্ষ্যে, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনে। কিন্তু বর্তমানে সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহার দারুণভাবে উপেক্ষিত। এর ভবিষ্যৎ ফলাফল খুব খারাপ হতে বাধ্য।

শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 purbobangla