1. [email protected] : purbobangla :
শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পাঠ্যবই না পড়েই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল: তথ্যমন্ত্রী সারাদেশে বিএনপির পদযাত্রা ১১ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গায় ৯ লক্ষ টাকার বিয়ারসহ ২ মাদক কারবারি আটক পলাতক মূল হোতা সু চির মুক্তির পক্ষে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস বিএনপি জামাতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বিএনপির ১০ দফা দাবি মূল্যহীন: তোফায়েল আহমেদ ১ হাজার কোটির ক্লাবের পথে ‘পাঠান’ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রচারনায় সরগরম আদালত অঙ্গন সুফিবাদীদের প্রাণশক্তি আল্লামা আজিজুল হক ইমাম শেরে বাংলা (রহ.) ওফাত বার্ষিকী পালন করলেন সাবেক মেয়র এম. মনজুর আলম

রাজাপুরে আশ্রয়ণের ঘরেও ‘কেয়ারটেকার’ ঘর বরাদ্দে অনিয়ম আনসার সদস্যের নামে দুইটি ঘর, যারা বরাদ্দ পেয়েছেন তারা ভাড়া দিয়ে অন্যদের রাখছেন ঘরে

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ শনিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কৈবর্তখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩১ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ পেয়েছেন মজিবর রহমান। অথচ রাজাপুর সদরের বলাইবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতেই থাকেন তিনি! আশ্রয়ণের ঘরটির কেয়ারটেকার তার চাচাতো ভাই ইসমাইল। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেই ঘরে বসবাস করছেন তিনি। ইসমাইল-ফাতেমা দম্পতির পরিবারে চার মেয়ে। তাদের কোনো ছেলেসন্তান নেই। চট্টগ্রামে থাকাকালীন বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দেন পটুয়াখালী ও বরগুনায়। স্ত্রী ও ছোট দুই মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতেন তিনি। ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর মজিবর তাদের চট্টগ্রাম থেকে কৈবর্তখালী নিয়ে আসেন। ২০২১সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে তারা আশ্রয়ণের এই ঘরে বসবাস করছেন। রাজাপুর উপজেলার বড় কৈবর্তখালী আশ্রয়ণের ৩১ নম্বর ঘরের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম জানান, আমরা আগে চট্রগ্রাম থাকতাম এই ৩১ নম্বর ঘরটা আমার চাচতো ভাসুর মজিবরের ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে আমরা এখানে বসবাস শুরু করি। মজিবর তার নিজ বাড়িতে বসবাস করে। কয়েক মাস পরে ভাসুর মজিবর এসে আমাদের ঘর খালি করার জন্য বললে আমরা উপায়হীন এবং ঋণগ্রস্ত বলে এখানেই আছি। আমরাও ঘরের জন্য আবেদন করেছি, ঘর পেলেই ছেড়ে সেখানে যাবো। অন্যদিকে ৯০ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ হয় পিয়ারা বেগমের নামে। রাজাপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে ঘরটি বুঝে নেওয়ার পর হাবিব নামের একব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন হাবিব সপরিবার নিয়ে ছয়মাস বসবাস করেন। হাবিব একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তারও নিজস্ব কোনো সম্পত্তি নেই। কিশোরী কন্যাসহ ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন হাবিব। ওই ঘরের সামনে এখনও হাবিবের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা আছে। মেয়েকে ভালো পাত্রের কাছে বিয়ে দিতে ওই ঘরটি ছেড়ে রাজাপুর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন তিনি। এরপর ওই ঘরটি আঃ বারেক নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে ভাড়া দেন পিয়ারা বেগম। সম্প্রতি বারেক এর বিরুদ্ধে রিকশা চুরির অভিযোগ ওঠে। এরপর গত ১২ নভেম্বর বারেকও ওই ঘর ছেড়ে চলে যান। এখন ওই ঘরটি খালি পড়ে আছে। আশ্রয়ণের ঘরের দেখাশোনার জন্য আর কাউকে পাননি পিয়ারা বেগম! আশ্রয়ণের ৮৮ নম্বর ঘরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান কাজল বলেন, ৯০ নাম্বার ঘর পিয়ারা বেগম নামের এক ব্যক্তি পাইছে। ঘর পিয়ারা বেগম পাওয়ার পর হাবিব নামে এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিছে। তারপর হাবিব ছয়মাস ঘরে বসবাস করছিলো। এরপর হাবিব আবার আঃ বারেক নামের এক ব্যক্তির কাছে ঘর ভাড়া দিছে। বারেক চুরির অপরাধে এখান থেকে পালিয়ে গেছে এখন ঘরে কেউ থাকে না। রাজাপুর সদর ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার আ. শুক্কুরের নামে ২১ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ রয়েছে। তার ছেলে কলেজ পড়ুয়া মেহেদী মাঝে মধ্যে ওই ঘরে রাতযাপন করেন। নিয়মিত কেউ থাকেন না ওই ঘরে। আরেক আনসার সদস্য মোজাম্মেল ও তার স্ত্রীর নামে ১৫০ ও ৩৭১ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ রয়েছে। তারা দুজন দুটি ঘরে থাকছেন। ১৫০ নম্বর ঘরের বারান্দায় তার মেয়ের জামাইর ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও ভ্যান গাড়ি চার্জ দেয়। খাদিজার নামে ৪ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ রয়েছে। অথচ তিনি এখানে থাকেন না। তিনি রাজাপুর উপজেলার ডাকবাংলা মোড় এলাকায় বাসাভাড়া থাকেন। খাদিজার স্বামী ইন্ডিয়া থাকেন। অপরদিকে নাসিমা নামে ১৭৮ নম্বর ঘর বরাদ্দ রয়েছে অথচ তিনিও এখানে থাকে না। তিনি বরিশালে বাসাভাড়া থাকেন। বাদল নামে ৩৭ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ রয়েছে। অথচ তিনিও এখানে থাকে না রাজাপুরে তার নিজবাড়িতে থাকেন তার বাড়িতে জমি ও ঘর রয়েছে। ঘর পাওয়ার পর এসে তালা লাগিয়ে গেছেন এবং ছয় মাস পর একবার এসে ঘরটি দেখে আবার তালা লাগিয়ে চলে যান। আশ্রায়নের ১৮২ নম্বর ঘরটি সোনাই নামে বরাদ্দ রয়েছে অথচ তিনিও এখানে ঘরে থাকে না তিনি তার নিজ বাড়িতে থাকেন। ঘর পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এখানে বসবাস করেন না। অপরদিকে আজিজ নামে ১৭৫ নম্বর ঘর বরাদ্দ রয়েছে কিন্তু সেও এখানে থাকে না রাজাপুরে বাসাভাড়া থাকে। এবং রিজিয়া নাসে ১৮৪ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ রয়েছে অথচ তিনিও এখানে থাকে না। তিনি তার নিজ বাড়িতে থাকেন। ঘর পাওয়ার পর থেকে আজিজ রিজিয়া তারা কেউ থাকে না। আশ্রয়ণের ৫নম্বর ঘরের বাসিন্দা কমলা বেগম বলেন, ৪নাম্বার ঘরটি খাদিজা নামের এক মহিলা পেয়েছে তার স্বামী ইন্ডিয়া থাকে। খাদিজা রাজাপুরে ডাকবাংলা মোড় বাসাভাড়া থাকে সে এই ঘরে থাকে না। ১৭৪ নম্বর ঘরের বাসিন্দা হাসিনা বেগম বলেন, ১৭৮ নাম্বারের ঘরটি নাসিমা নামে এক মহিলা পেয়েছেন কিন্তুু সে বরিশালে থাকে এখানে ঘরে থাকে না। ৩২নম্বর ঘরের বাসিন্দা সম্রাট বলেন, বাদল নামের এক ব্যক্তি ৩৭ নাম্বার ঘরটি পেয়েছে। ছয়মাস পরে একবার ঘরে আসছিলো এসে আবার তার নিজ বাড়িতে চলে গেছে তার বাড়িতে জায়গা জমি আছে সেখানে সে থাকে। ঘর পাওয়ার পর থেকে এখানে সে থাকে না ঘর তালা মারা থাকে।১৭৬ নম্বর ঘরের বাসিন্দা মজিতুন বেগম বলেন, আমার ঘরের সামনের ১৮২ নাম্বারে ঘর পাইছে সোনাই নামের এক ব্যক্তি ঘর পাওয়ার পর থেকে সে ঘরে থাকে না। ১৮১ নম্বর ঘরের বাসিন্দা মিলন বলেন, ১৭৫ ও ১৮৪ নাম্বার ঘরে কোনো লোক বসবাস করে না। ১৭৫ নাম্বার ঘরটি পাইছে আজিজ নামের এক ব্যক্তি সে এই ঘরে থাকে না রাজাপুরে ভাড়াবাসা নিয়ে থাকে। এবং ১৮৪ নাম্বার ঘর পাইছে রিজিয়া নামের এক ব্যক্তি কিন্তু সে এই ঘরে থাকে না। তার নিজ বাড়িতে ঘর আছে সেখানে থাকে। ঘর দুইটি পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কেউ ঘরে থাকে না। অভিযুক্তদের মধ্যে ৪নাম্বার ঘরের খাদিজা বেগম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাজাপুর ডাকবাংলা মোড় এলাকায় কাবুলের বাড়িতে ৩বছর বাসাভাড়া ছিলেন, তার স্বামী অসুস্থতার কারনে দেড় বছর আগে ইন্ডিয়া চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন এরপর আর আসেন নায় ওখানে কাজ করেন। এছাড়াও ৬নং, ২৫ নং, ৮২ নং, ৮৫ নং, ৯৫ নং, ৩২২ নং, ৩২৩ নং, ৩৮৫ নম্বর ঘর গুলা কার নামে বরাদ্দ তা জানেন না প্রতিবেশীরাও। তারা ঘর গুলো দেখিয়ে জানান, আমরা কয়েকটি পরিবার একবছরের বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করছি। ওই ঘর গুলো বরাদ্দের পরে এখন পর্যন্ত কাউকে আসতে দেখিনি। কার নামে বরাদ্দ তাও জানি না। সবসময় তালা দেওয়াই থাকে।
কিছু ঘর কে বরাদ্দ পেয়েছেন জানেন না প্রতিবেশীরাও। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলায় ২১৯টি আশ্রয়ণের ঘর রয়েছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৮৮টি, নলছিটি উপজেলায় ১১০টি এবং রাজাপুর উপজেলায় ২১টি। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী মুজিববর্ষে গৃহহীন উপকারভোগী ১ হাজার ৪৮২ জন। প্রথম পর্যায়ের ৪৭৪টি ঘরের ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৫১টি, নলছিটি উপজেলায় ৪০টি, রাজাপুর উপজেলায় ৩৩৩টি এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৫০টি। দ্বিতীয় পর্যায়ের ৪৭২টি ঘরের ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১২টি, নলছিটি উপজেলায় ৯৫টি, রাজাপুর উপজেলায় ৩৭টি এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৩২৮টি। তৃতীয় পর্যায়ের ৬৮০টি ঘরের ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৩৮টি, নলছিটি উপজেলায় ৩০২টি, রাজাপুর উপজেলায় ১৪১টি এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৯০টি। চতুর্থ পর্যায়ে নতুন ২১৬টি ঘরের বরাদ্দ এসেছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১১৮টি, নলছিটি উপজেলায় ৪৮টি, রাজাপুর উপজেলায় ৫০টি বরাদ্দ রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী নির্মিত ঘর সুবিধাভোগী গৃহহীনদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘরের নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘরের নির্মাণকাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাজাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির আ. রহিম জানান, ওই ঘরগুলোতে আমরা খোঁজ নেব। প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তরা না থাকলে পরে ব্যবস্থা নেব। কিন্তু ওইসব ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাদের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। রাজাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ববি মিতু এবিষয় ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হয়ে বলেন, আমরা এবিষয় খোজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান খান এবিষয় ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হয়ে বলেন, আমাদের কাছেও কিছু অভিযোগ আছে। কিন্তু ২৫, ৮২, ৮৫, ৯৫, ৩২২, ৩২৩, ৩৮৫ নম্বর ঘরের তথ্যের সঙ্গে আমাদের তথ্য মিলছে না। পরবর্তীতে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজমুল আলম, এবিষয় ভিডিও বক্তব্য দিতে রাজি না হয়ে জানান, যাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারা যদি ওই ঘরে না থাকেন তাহলে তাদের বরাদ্দ বাতিল করে অন্য অসহায়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 purbobangla