1. admin@purbobangla.net : purbobangla :
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
সিএমপি’র নতুন কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় নলছিটিতে প্রাইভেটকারে ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক-২ বীণারানী দে’র শোক সভায় বক্তারা মানুষের কল্যাণ সাধনের মাঝে জীবনের মহত্ব চট্টগ্রাম বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবসায়ী গ্রুপের নির্বাচনের প্রার্থী পরিচিতি অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে সিলেটের বন্যা দুর্গত ৭ শতাধিক পরিবারে ত্রাণ বিতরণ দুর্নীতিঃ চাকরি গেলো ডিএসসিসির কর কর্মকর্তাসহ ৩৪ জনের ‘লিগ্যাল এইড দরিদ্র বিচার প্রার্থীর শেষ আশ্রয়স্থল’ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের অগ্নি নির্বাপণ জরুরী উদ্ধার ও বহির্গমন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও মহড়া অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ৬৮০পিচ ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নবাবগঞ্জে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (৩২১)বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমীপে

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ সোমবার, ২৩ মে, ২০২২
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

মাননীয়,

বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমীপে ,

শ্রদ্ধেয় আলমগীর ভাইজানরে

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া ভিশন ও মিশন কায়েমের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া মহা- সুখেই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া  তেল, গ্যাস ও আটা ও দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধিতে হিমসিম খাইয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গত সপ্তাহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম। এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন এবং ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

আপনি হইলেন, বিএনপির মহাসচিব, সাবেক কৃষি মন্ত্রণালয় ও  বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী । আপনি ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়াছিলেন।

শুনিয়াছি, ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করিয়াছেন। পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনাও করিয়াছেন।তাহা ছাড়াও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে আপনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরের একজন নীরিক্ষক হিসাবে কাজ করিয়াছেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিবও ছিলেন। ১৯৮২ সাল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসিবার পর বারী পদত্যাগ করিবার পূর্ব পর্যন্ত আপনি এ দায়িত্বে ছিলেন । বারী সাহেব পদত্যাগ করিবার পর আপনি শিক্ষকতা পেশায় ফিরিয়া যান। এ সময়  ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করিয়া ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করিয়াছেন।

ভাইজানরে,

আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।  তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের  একজন সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির এস.এম. হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হইয়াছিলেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আপনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রাখিয়া আপনি আপনার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়াছেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করিয়াছেন। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইয়াছিলেন আপনি। জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করিতে যখন দেশব্যাপী আন্দোলন চলিতেছে, তখন আপনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করিয়াছেন। ১৯৯২ সালে আপনি বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সাথে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দয়িত্ব পালন করেন।

ভাইজানরে

আপনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে যথাক্রমে ৩৬,৪০৬ ও ৫৮,৩৬৯ ভোট পান এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের কাছে পরাজিতও হইয়াছিলেন।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সাথে প্রতিযোগিতা করে ১,৩৪,৯১০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর নভেম্বরে বিএনপি সরকার গঠন করিলে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আপনি এ দায়িত্ব পালন করিয়াছেন।

আপনি ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই সাথে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন এবং বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে শপথ গ্রহণ না করায় নির্বাচন কমিশন আপনার আসনটি শূন্য ঘোষণা করিয়া এবং সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ভাইজানরে

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির ৫ম জাতীয় সম্মেলনে আপনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। এই পদটিতে এর আগে তারেক রহমান বহাল ছিলেন। তারেক রহমান এই সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যানের পদ লাভ করেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবংআপনি বিরোধী দলীয় মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমে পরিচিতি পান।

২০১১ সালের ২০শে মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করিবার পর দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আপনাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা এই মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলিয়াছিলেন। কেউ কেউ বলিয়াছেন বিএনপির সংবিধানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কোন বর্ণনা নাই। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ২১ মার্চ ২০১১ তারিখে সৌদি রাজপরিবারের আমন্ত্রণে সৌদি আরব যাইবার আগ মুহুর্তে আপনাকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করিয়া গেলে এই সংক্রান্ত বিভ্রান্তির অবসান ঘটে। ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল মহাসচিব হিসাবে নির্বাচিত হন।

বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে মির্জা ফখরুল বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। এ ছাড়াও দেশব্যাপী বিএনপির একাধিক বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচীর আপনি নেতৃত্ব দিয়াছেন, যেগুলোর অধিকাংশেরই কেন্দ্রে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবী।

ভাইজানরে,

আপনি ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আপনাদের দুই মেয়ে রহিয়াছে। রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করিয়াছেন ও বর্তমানে ঢাকার একটি বীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তাহার বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করিয়া এই প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকতা করিয়াছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসাবে কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করিাাছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করিতেছেন।আপনার বাবা মির্জা রুহুল আমিন একজন আইনজীবী ছিলেন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ও পরে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশে মির্জা রুহুল আমিন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।আপনার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন একজন বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের ৪র্থ স্পিকার। মির্জা হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে ভূমিমন্ত্রী, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে স্পীকার এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আপনার অপর চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা এপ্রিল ১৯৭১-এ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যেটি মুজিবনগর সরকার নামে খ্যাত, এই সরকার কর্তৃক ডাইরেক্টোরেট অব ইয়ুথ ক্যাম্পের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

আজ আর না ।আগামী সংংখ্যায় আবারো লিখিব।আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায় ইতি আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া 

গ্রন্থনা ম আ হ

শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 purbobangla