1. [email protected] : purbobangla :
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

পিপিপি’র মাধ্যমে ২৫ বন্ধ পাটকল চালুর উদ্যোগ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৭ Time View
 পূবা ডেক্স
সরকারি নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বন্ধ ২৫টি পাটকল চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধ পাটকল দ্রুততম সময়ে ইজারা (লিজ) পদ্ধতিতে চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ দিকে বন্ধ পাটকল চালু করতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রকাশ করছে সৌদি আরব। সেজন্য সৌদি আরব বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাটখাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন ঘটাতে আগ্রহী। বন্ধ ঘোষিত পাটকলগুলো ফের চালু করা সম্ভব হলে অবসায়নকৃত শ্রমিকদের মধ্যে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শ্রমিকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবেন। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ ৯৫৩.৫৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২.৯৪ শতাংশ বেশি। আর তা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০.৬৪ শতাংশ বেশি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর জানান, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধ মিলসমূহ পুনঃচালু করে পাটপণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব। ২৫আগষ্ট বুধবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে তার সচিবালয়স্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ইসসা ইউসেফ ইসসা আল দুহাআলান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট  মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসসা ইউসেফ ইসসা আল দুহাআলান জানান, সৌদি আরব আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ। সেজন্য সৌদি আরব বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাটখাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন ঘটাতে আগ্রহী।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সৌদি আরব রাষ্ট্রদূতকে জানান, বাংলাদেশও আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে সৌদি আরব বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম দেশ। সৌদি আরব বস্ত্র ও পাটখাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে আরো অধিক পরিমাণে বিনিয়োগ করবে তিনি এ আশা ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বের সেরা মানের পাট উৎপাদিত হয় এবং এ পাট থেকে এখন উচ্চমানের ও আকর্ষণীয় বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। পাটপণ্য সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব। সৌদি আরবে সম্প্রতি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়াতে সে দেশে বহুমুখী পাটপণ্যের চাহিদা বহুগুণে বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহুমুখী পাটপণ্যের রফতানি হয়। এ রফতানি দেশের তালিকায় অন্যতম অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরো অধিক পরিমাণে বহুমুখী পাটজাত পণ্য সৌদি আরবে রফতানি করতে চায়। সাক্ষাৎকালে বন্ধুপ্রতীম দুদেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছাড়াও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,  বন্ধ পাটকল চালু করা গেলে শ্রমিকদের মধ্যে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শ্রমিকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবেন। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল খুলনা শিল্পনগরীর ক্রিসেন্ট ও প্লাটিনাম জুটমিল লিজ নেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। ইতোমধ্যে সে দেশের প্রতিনিধি দল জুটমিল দুটি পরিদর্শন করেছেন। শ্রমিকদের বেকারত্ব নিরসনে সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এদিকে সরকার প্রাথমিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো ফের উৎপাদনে ফেরাতে চার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।  পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ, জিটুজি এবং ইজারা। তবে কম সময় এবং দ্রুত উৎপাদন ও কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে ইজারাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ইজারা দেওয়া কারখানাগুলো বিজেএমসি ব্যবস্থাপনা, লাভ-লোকসানে কোনো অংশীদারি থাকবে না। তবে ইজারা দেওয়ার পর সরকারের দেওয়া শর্ত পালন করছে কিনা তদারকি করবে সংস্থা। এ ছাড়া অগ্রাধিকার হিসেবে কর্মচ্যুত শ্রমিককে ওই কারখানায় নিয়োগ দিতে বাধ্য করা হবে। বিষয়টি সরকারের কঠোর নজরদারিতে থাকবে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তারা বন্ধ দুই পাটকল চালু করে। বেসরকারিকরণ করা তিন পাটকল ফিরিয়ে এনে আবার চালু করে। এ জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়। তবে  প্রত্যাশাপূরণ হয়নি। ২০১০-১১ অর্থবছরেই ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা মুনাফার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুণছে চালু হওয়া পাটকলগুলো। গত ১১ বছরেই ৪ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল। সর্বশেষ পাঁচ বছরে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। লোকসানের বোঝা বইতে না পেরে ২৫ পাটকলের ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে  (গোল্ডেন হ্যান্ডশেক) পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় গত বছর ১ জুলাই থেকে।
ক্রমাগত লোকসারে কবলে পড়ে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয় সরকার। এসময় পাটকলগুলোয় বদলি শ্রমিক ছিলেন ২৩ হাজার ৮৪২ জন। দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৪৬৩ জন।
জানা গেছে, বন্ধকৃত ২৫টি মিলের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪টি মিলের (খালিশপুর, দৌলতপুর ও কেএফডি) শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি আগস্ট ২০২০ মাসে পরিশোধ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ও অবসানকৃত ৩৪ হাজার ৭৫৭ জন স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনাদি ২ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে পাওনার ক্ষেত্রে অর্ধেক নগদে ও অর্ধেক তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১টি মিলের সবগুলোতে নগদ অংশ পরিশোধের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ হতে এ পর্যন্ত ১,৭৬৯.৪১ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। অদ্যাবধি ৩১ হাজার ৭৫৭ জন শ্রমিকের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে ১৬৬২.১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যা বরাদ্দের প্রায় ৯৩.৯৪ শতাংশ ।
উল্লেখ্য, সোনালি আঁশে সমৃদ্ধ অর্থনীতির স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠাকালে বিজেএমসির আওতায় ৭০টিরও বেশি পাটকল ছিল। কিন্তু ধারাবাহিক লোকসানের কারণে মিলসংখ্যা কমতে কমতে ২৫-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরের মধ্যে ৪৪ বছরই লোকসান গুনেছে বিজেএমসি।
শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 purbobangla